সূরা এখলাছ মাত্র তিনবার পাঠ করলে কি হয় || What happens if you recite Surah Ekhlach only three times || Need to know
সূরা এখলাছ মাত্র তিনবার পাঠ করলে কি হয়
আপনি যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে কোন প্রার্থনা করেন,কোন আশা পুরনের জন্য দোয়া করেন তবে সে দোয়া করার পূর্বে একবার দরূদ পাঠ করবেন এবং শেষ হওয়ার আগে আরো একবার দরূদ পাঠ করে নিন। অথবা চাইলে দোয়ার শুরুতে ৩ বার এবং দোয়া শেষে ৩ বার দুরুদ পাঠ করে নিবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা আল্লাহর নিকট কোন কিছু যখন চাও তার সাথে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করো। আল্লাহর শান এরূপ নয় যে কেউ তার কাছে দুটি জিনিস চাইলো একটি পূরণ করবেন অপরটি পূরণ করবেন না। বরং আল্লাহর কাছে যদি কোন ব্যক্তি একটি নয় দুটি হাজার টি জিনিস চায় এবং সেই চাওয়া-পাওয়া যদি সে ব্যক্তির জন্য ভালো কিছু হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহ তা'আলা অবশ্যই তা কবুল করে থাকেন।
তাহলে আসুন জেনে নেই যে সূরাটি তিনবার পাঠ করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনার মনের সকল নেক আশা পূরণ করবেন :
সূরাটি হলো সূরাতুল ইখলাস। সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নেক আশা পূরণ করেন। কেননা সূরা ইখলাস পবিত্র কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান। অর্থাৎ এশার নামাজের পর প্রথমে একবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবো তারপর সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করবো এবং আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবো। দোয়া চাওয়ার পরে দোয়া শেষ করার পর মুহূর্তে কমপক্ষে আরো একবার দরুদ শরীফ পাঠ করবো। এক্ষেত্রে দুরুদে ইব্রাহীম পড়া উত্তম তাহলে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা আমাদের মনের নেক মুকসুদ মনের নেক আশা পূরণ করবেন ইনশাআল্লাহ।
এছাড়া রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে তার ৫০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে (তিরমিজি হাদিস নম্বর: ২৮৯৮) । হযরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাসুলুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু কাছে দারিদ্রতার অভিযোগ করে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম তাকে বললেন, যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দিবে এবং একবার সূরা ইখলাস পাঠ করবে। এই আমল করার ফলে - কিছুদিনের মধ্যে তার দারিদ্রতা দূর হয়ে যায় (কুরতুবি :২০/১৮৫)।
তাহলে আপনি বুঝতেই পারছেন এই আমলটি পরীক্ষিত আমল এতে কোন সন্দেহ নেই। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা - ঘুমানোর আগে ছোট্ট একটি কাজে পাওয়া যাবে জান্নাত। খুব সহজেই খুব ছোট আমল। রাসূল (সাঃ) ঘুমানোর আগে বিশেষ কিছু আমল করতেন। আমরা উম্মতে মুহাম্মদীর যারা সুন্নতের উপর নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আল্লাহর রাসূলের দিদার পেতে চাই। পরকালের রাসুল (সাঃ) সুপারিশ পেয়ে জান্নাতে যেতে চাই তাদের অবশ্যই এসকল সুন্নতের অনুসরণ করা দরকার।
কেননা এই সুন্নত গুলো আমাদের দুনিয়ার রিযিক বন্দোবস্ত করবে, তেমনি মনের আশা গুলো পূরণ করবে। আমাদের দোয়া কবুল করাবে এবং পরকালে রাসূল (সাঃ) এর সুপারিশ পেতে সাহায্য করবে।
রাসুল (সাঃ) প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ওযু করতেন, চোখে সুরমা দিতেন। তারপর মেসওয়াক করতেন। প্রথমে ডান কাত হয়ে ঘুমাতেন। তারপর প্রয়োজনে বাম কাত হয়ে যেতেন। শোয়ার আগে বিছানা জেনে নেওয়া রাসুল (সাঃ) সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও শোয়ার পূর্বে বাতি বন্ধ করে, ডান কাত হয়ে শোয়া, আয়াতুল কুরসি পাঠ করা এবং সূরা ইখলাস তিনবার পাঠ করা সুরা ফাতেহা, সূরা কাফিরুন, সূরা কদর, সূরা ফালাক, সূরা নাস, সূরা তাকাসুর এই ছড়াগুলো চারবার পাঠ করবেন এবং সম্ভব হলে সূরা আল মূলক একবার পড়বেন। এমনটা কিন্তু নয় যে প্রতিটি আমল আপনাকে করতেই হবে এর ভিতর যতটুকু করতে পারেন তত টুকুই হিসেবে গণ্য হবে। তাহলে ইনশাল্লাহ আপনি মৃত্যুর পর সহজে জান্নাত পেয়ে যাবেন। বিনা হিসাবে আপনাকে আল্লাহ তা'আলা মৃত্যুর পরে জান্নাত নসিব করবেন। আপনার সমস্ত অভাব অনটন দূর হয়ে যাবে ।


কোন মন্তব্য নেই
tnx