হোয়াংহো নদী চীনের দুঃখ নদী
হোয়াংহো নদী চীনের দুঃখ নদী
পামির মালভূমিকে কেন পৃথিবীর ছাদ বলা হয়
এই নদীকে ঘিরে চীনাদের দুঃখ দুর্দশার শেষ না থাকলেও হোয়াংহো কে নিয়ে চীনের মনে মনে গর্ব ও করে ।কারণ এই নদী তাদেরকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। প্রতিবার নদীর তাণ্ডবের সর্বস্ব হারিয়ে আবার নতুন উদ্যমে তারা জীবন শুরু করেছে । সেই প্রাচীন শিক্ষা চীনাদের মধ্যে আজও রয়ে গেছে।
নদীর পানিতে প্রচুর পোলিও কাদা মিশ্রিত থাকার কারণে কাব্যিক ভাষায় হোয়াংহো নদীকে বলা হয় কর্দমাক্ত প্রবাহ। এই নদীর পলি যে সমস্ত উর্বর অঞ্চল তৈরি করেছে সেখানেই চৈনিক সভ্যতার জন্ম হয়েছে । আদিম চিনা গ্রাম ও শহর এবং চীনা ভাষার প্রাথমিক বর্ণমালা ও চিত্রকর্ম কোন নদীর তীরে শুরু হয়েছিল। সেজন্য হোয়াংহো নদীকে বলা হয় চীনে মা। চীনে একমাত্র হোয়াংহো নদীকে বলা হতো হো, যার অর্থ নদী । অন্যান্য নদীকে বলা হতো সোই যার অর্থ পানি। অন্যান্য নদী থেকে হোয়াংহো অনেক বড় হবার কারণেই মূলত একে হো নামে সম্বোধন করা হতো।
ইতিহাসে ২৬ বার এই নদীর গতিপথ ভীষণ ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে প্রত্যেকবারই চীনের জনগণের জীবনে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা । এই নদীর বন্যা ছিল নিয়মিত ঘটনা প্রায়ই হোয়াংহো নদীর বন্যার পানি সবকিছু ভাসিয়ে দিত । নয়া চীন প্রতিষ্ঠিত হবার পর বেশ কিছু বাঁধ নির্মাণ করে নদীর পানিকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়। চিনা বহু লোকগাথা এবং শিল্প সাহিত্যে নদীর গল্প উঠে এসেছে ।এই নদীর আগ্রাসী রূপের পাশাপাশি নদীর অনেক সৌন্দর্য রয়েছে। বর্তমানে হোয়াংহো নদীকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে । হোয়াংহো নদী চলার পথে অনেকগুলো জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে ।এমনই জলপ্রপাত হল হকু । এটি চিনের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলপ্রপাত এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কর্দমাক্ত জলপ্রপাত হিসেবে বিবেচিত ।
ভালো লাগলে পাশে থাকবেন ।আপনার পাশে থাকো আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

.jpeg)
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই
tnx