Ads

Breaking News

লোডশেডিং কেন হয় | Why is load shedding | need to Know

 লোডশেডিং কেন হয়

বর্তমান মানব সভ্যতার অন্যতম আশীর্বাদ বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ আমাদের জীবনকে যতটা সহজ করেছে তা অন্য কোন প্রযুক্তি করতে পারেনি। বরং অধিকাংশ প্রযুক্তি এই বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভরশীল কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদ্যুতের একটি বীরঙ্গনা হলো লোডশেডিং।

শেখ মুজিবুর রহমান | sheikh Mujibur Rahman | Need to Know

লোডশেডিং হলেই আমরা বিদ্যুৎ বিভাগ সরকারের উপর ভীষণ বিরক্ত হই । তবে সত্যি কথা বলতে লোডশেডিং এর জন্য সবসময়ই কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করা যায়না। মাঝে মাঝে সমগ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই লোডশেডিং করতে হয়। লোডশেডিং জনজীবনে দুর্ভোগ নিয়ে আসলেও জাতীয় স্বার্থে তাদের উপকারী।

আমরা অনেকেই হয়তো ভাবছেন কীভাবে উপকারী হতে পারে এবং কিভাবে তাপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে সে সম্পর্কে জানুন : 

লোডশেডিং হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় যদি উৎপাদন কম হয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাহিদার তুলনায় যদি উৎপাদন কম হয় তখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীল রাখতে এই বাড়তি চাহিদাকে লোডশেডিং এর মাধ্যমে উৎপাদনের সাথে সমন্বয় করা হয়। এই সমন্বয় সাধনের কাজটি না করলে সমগ্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটে blackout এর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

মনে করুন এই মুহূর্তে বিদ্যুতের চাহিদা বা লোড হল 7 হাজার মেগাওয়াট। এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে 7 হাজার মেগাওয়াট। তাহলে 500 ওয়ার্ড বিদ্যুৎ সম্পূর্ণভাবে বৃথা যাবে। এই অবস্থায় বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি হবে 50.70 হার্জ । ফ্রিকোয়েন্সি যদি 50 হার্জের বেশি হয় তার মানে বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বেশি হচ্ছে। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জমা করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রচুর জ্বালানি এবং অর্থ খরচ হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে অনেক সম্পদের অপচয় হয়। সেজন্য কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থেকে কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাওয়ারপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে নতুন পাওয়ার প্লান্ট চালু করার আগ পর্যন্ত যদি চাহিদা আরো বেড়ে যায় এবং ফ্রিকোয়েন্সি 50 এর নিচে নামতে থাকে তাহলে এক বিশাল ঝুঁকি তৈরি হয়। ফ্রিকোয়েন্সি কমতে কমতে যদি 48.6 এর নিচে নেমে যায় তাহলে সমগ্র দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো একযোগে বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো কোনোটি বোমার মত বিস্ফোরিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাওয়ার প্লান্ট গুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরকম ভাবে দেশের সবগুলো পাওয়ার প্লান্ট নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক করতে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কম ফ্রিকুয়েন্সির জন্য সকল পাওয়ার প্লান্ট যদি স্থায়ীভাবে নষ্ট না হয় সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে অনেক বড় বিপদ। 

এই অবস্থাকে বলা হয় blackout। তার মানে পুরো দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া। Blackout হলেও সারা দেশের বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করতে 16 ঘন্টা থেকে একদিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।2014 সালে বাংলাদেশের blackout এর মতো ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। সে বছর নভেম্বরের 1 তারিখ সকাল সাড়ে 11 টা থেকে নভেম্বরের 2 তারিখের মধ্যরাত পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই বিপর্যয়ে টি বিশ্বের অনেক বড় ও ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় গুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানোর জন্যই মূলত লোডশেডিং করা হয়। মনে করুন এই মুহূর্তে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে 7 হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে 6 হাজার মেগাওয়াট। এখন নতুন পাওয়ার প্লান্ট চালু হবার আগ পর্যন্ত বাড়তি যোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই কোনো না কোনোভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে ফেলতে হবে তখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে কোন কোন এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। একেই আমরা বলি লোডশেডিং। এরকম পরিস্থিতিতে সাধারণত কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে লোডশেডিং করা হয়।

এর ফলে দেশের সামগ্রিক চাহিদা মাত্রা অনেকটা কমে আসে। নির্ধারিত অঞ্চল ভিত্তিক 200 বা 500 মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে আনার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য আনা হয়। সেদিক বিবেচনায় লোডশেডিংয়ের সাধারণ মানুষের অনেক ভোগান্তি হলেও দেশের মূল্যবান বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো যায়। তাই লোডশেডিং জাতীয় স্বার্থে একটি জরুরী পদক্ষেপ। তবে এর বাইরে আরেক ধরনের লোডশেডিং হয়। 

একে বলা হয় সিডিউল লোডশেডিং। অনেক সময় বিভিন্ন সাবস্টেশনের আগে থেকেই একটি নির্দিষ্ট পরিমান বরাদ্দ দেওয়া থাকে । সেই বরাদ্দ যদি চাহিদার তুলনায় কম হয় তখন অল্প বিদ্যুৎ দিয়ে কোন এলাকার সরবরাহ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য নিয়মিত লোডশেডিং করতে হয়। এই ধরনের লোডশেডিং জনগণের জন্য খুবই ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 


সবাই ভাল থাকবেন,, আসসালামু আলাইকুম।


কোন মন্তব্য নেই

tnx