রহস্যময় শয়তানের সাগর | Devil's Sea | need to know
রহস্যময় শয়তানের সাগর
পৃথিবীর জলে-স্থলে অসংখ্য রহস্যময় জায়গা আছে। যেগুলো সাধারণ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। ঠিক তেমনি একটি জায়গা হল Devil's sea বা শয়তানের সাগর। প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানি উপকূলে শয়তানের সাগরের অবস্থান।
ইবলিশ শয়তান ও একটি গাছের সুন্দর ইসলামিক শিক্ষনীয় ঘটনা
ধারণা করা হয় পৃথিবীর ১২ টি জায়গায় ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ফিল্ড অত্যন্ত প্রখর। এই জায়গা গুলোকে বলা হয় Vile Vortices।শয়তানের সাগর ১২ টি Vile Vortices এলাকাগুলো একটি। এই জায়গাটি Devil's Trangel বা শয়তানের ত্রিভূজ এবং ড্রাগন ট্রায়াঙ্গেল নামেও পরিচিত। নাম যাই হোক না কেন এই এলাকার আয়তন নিয়ে মতপার্থক্য আছে।
কিছু নথিতে বলা হয় জাপানের পূর্ব উপকূল থেকে 110 কিলোমিটার দূরে আবার কোথাও বলা হয় জাপান থেকে 12শ কিলোমিটার দূরে আয়োজিমা দ্বীপের কাছে শয়তানের সাগর অবস্থিত। যেহেতু কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্রে শয়তানের সাগর অঙ্কন করা হয় না তাই এর প্রকৃত আয়তন সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছুই বলা যায় না। তবে সাধারণত জাপানের বনিন দ্বীপ থেকে ফিলিপাইন সাগরের সিংহভাগ অঞ্চল শয়তানের হিসেবে পরিচিত।
শয়তানের সাগর কে কেন্দ্র করে বহু পুরনো চিনা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। চীনারা মনে করত এই অঞ্চলের পানির নিচে ড্রাগন বাস করে এসব ড্রাগণই সমুদ্রগামী জাহাজ গুলো কে গিলে খায়। খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার বছর আগে থেকেই তাদের মধ্যে এই উপকথা চলে আসছে। এর ফলে সহজেই বোঝা যায় অতি প্রাচীনকাল থেকেই শয়তানের সাগরের নানা ধরনের অলৌকিক ঘটনা ঘটত।
এসব অতিসংবেদনশীল কাহিনী জাপানে জনপ্রিয় হবার পর জাপানিরা এই সামুদ্রিক এলাকাকে "মা- নো উমি" নামে ডাকে। জাপানি ভাষায় "মা- নো উমি" অর্থ হল শয়তানের সাগর। কয়েকশত বছর ধরে শয়তানের সাগর এলাকার কুখ্যাতি রয়েছে। বিগত কয়েক দশক অমীমাংসিত বহু ঘটনা এবং নাবিকসহ জাহাজ হারিয়ে যাওয়ার মত বিষয় ঘটেছে এখানে।
চেঙ্গিস খানের নাতি কুবলাই খান 1274 সালে এবং 1281 সালে জাপান আক্রমণ করেন। কিন্তু দুইবারই কুবলা খান ব্যর্থ হন কারণ এই শয়তানের সাগর এলাকায় মারাত্মক ট্রাইফোনের কবলে পড়ে তার বাহিনী। কুবলাই খান এর বেশ কয়টি জাহাজ এবং প্রায় 40 হাজার সেনা শয়তানের সাগরে হারিয়ে যায়। 1940 এবং 1950 দশকে মাছ ধরার নৌকা এবং 5টী সামরিক জাহাজ শয়তানের সাগরের নিখোঁজ হয়ে যায়। এই সকল ঘটনা ঘটেছে মিয়াকি এবং আয়োজিমা দ্বীপের এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে। এসব হারিয়ে যাওয়া জাহাজের অনুসন্ধানের জন্য হাজার 1952 সালে Kaiyo Maru No.5 নামের আরেকটি জাহাজ পাঠানো হয়।
আশ্চর্যজনকভাবে সেই অনুসন্ধানী জাহাজটি 31 জন নাবিক সহ হাওয়াই মিলে যায়। তাদেরকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় নি। এরপর জাপান সরকারের সমুদ্র যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্য শয়তানের ত্রিভূজ এলাকাকে বিপদ জনক হিসেবে ঘোষণা করে। চীনা এবং জাপানি লোককাহিনীর মাধ্যমে জনপ্রিয় হবার ফলে বহু বিজ্ঞানী অতিপ্রাকৃতিক অঞ্চল নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন এমনিতেই জায়গাটি Vile Vortices অন্তর্ভুক্ত তার উপর হয়তো একই সাথে উষ্ণ এবং শীতল সামুদ্রিক জল প্রবাহের কারণে এখানে এক ধরনের গোলমাল তৈরি হয়।
বিজ্ঞানীদের ইভান অ্যান্ডারসনের মতে এই অঞ্চলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ডিস্টার্ব এর কারণে জাহাজগুলো একধরনের অদৃশ্য ফাঁদে আটকে যায়। আরেকটি অনুমান হলো এই অঞ্চলের জলের নিচে থাকা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত এর কারণে বিভিন্ন সময় জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতীতের এসব আগ্নেয়গিরি হয়তো চীনারা ড্রাগন ভাবতো। আগ্নেয়গিরি পিয়াসিলতার ফলে মাঝেমধ্যেই এখানকার ছোট ছোট দিনগুলো হারিয়ে যায় এবং একই জায়গায় আবার নতুন দ্বীপের সৃষ্টি হয়। আর একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয় আলোচিত এলাকার সাগরতলে বিপুল পরিমাণ মিথেন হাইড্রেট মজুদ রয়েছে।
এসব গ্যাস যখন বিস্ফোরিত হয় তখন সেই বিস্ফোরণের সাথে জাহাজ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলের পৌরাণিক কাহিনীটি বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা কোনটিই জায়গাটির রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। তবে এসব রহস্য থেকে একটি বিষয় নিশ্চিত যে প্রকৃতিতে এমন অনেক কিছুই আছে যা মানুষের চিন্তাশক্তির বাইরে।


কোন মন্তব্য নেই
tnx