Ads

Breaking News

চাঁদের মাটিতে সবজি চাষ | Cultivation of vegetables in the soil of the moon | Need to know

 চাঁদের মাটিতে সবজি চাষ 

Cultivation of vegetables in the soil of the moon



আগামী কয়েক দশকের মধ্যে চাঁদের বুকে মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গবেষকরা চাঁদের মাটিতে সবজি চাষে সফল হয়েছেন। আজ থেকে প্রায় 50 বছর আগে নাসার অ্যাপোলো মিশনে চাঁদের যে সমস্ত মাটি সংগ্রহ করা হয়েছিল সেই মাটিতে ফসল ফলানো হয়েছে। এই কাজটি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার গবেষকেরা। তাঁদের চাষ করা সবজির নাম মাস্টারবিন (Masterbin) সহজ ভাষায় বলতে গেলে এটি আমাদের দেশে সরিষা গাছের পশ্চিমা জাত। 

পামির মালভূমিকে কেন পৃথিবীর ছাদ বলা হয়

প্রাথমিক অবস্থায় চাঁদের মাটিতে রোপণ করা বীজ থেকে গাছ হলেও এগুলো পৃথিবীর মাটিতে বেড়ে ওঠা গাছের মত সরল ছিলনা। গবেষকরা বলছেন চাঁদের মাটিতে খুব বেশি পুষ্টি গুণ নেই। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর চাঁদের মাটিতে অনুপস্থিত। চাঁদের মাটিতে বীজ বপনের মাত্র দুই দিন পরেই বীজ থেকে অঙ্কুর আসা শুরু করে। অবাক করা বিষয় হলো বপন করার সবগুলো বীজ থেকেই অঙ্কুর এসেছে। প্রথম 6 দিন পর্যন্ত চাঁদের মাটিতে চাষ করা গাছগুলো পৃথিবীর মাটিতে চাষ করা গাছের সাথে কোন পার্থক্য ছিল না। প্রথম 7 দিনের শেষ এই গাছগুলো বড় হওয়ার গতি কমে আসে। সরিষা গাছ গুলো আর একটু বড় হওয়ার পর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে উদ্ভিদগুলো প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে উঠছে। তখন গাছগুলো পাতা প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় হচ্ছিল না। গাছগুলোকে সহযোগিতা করতে পর্যাপ্ত আলো,পানি এবং পুষ্টি উপাদান করা হয়। পরবর্তীতে গাছগুলো জিন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেন প্রতিকূল পরিবেশে বড় হওয়ার পরিষ্কার চিহ্ন রয়েছে গাছগুলোতে।



চাঁদের মাটির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী একে বলা হয় রেগোলিথ (Regolith)। পৃথিবীর মাটির সঙ্গে রেগোলিথ (Regolith) মাটির বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। রেগোলিথ(Regolith)  সূক্ষ্ম দানাদার এবং পাউডারের মতো। এসব সূক্ষ্ম মাটিতে আছে ধারালো কনা। নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে ধারালো কণাগুলো ফুসফুসের অনেক ক্ষতি করতে পারে। উদ্ভিদ চাষের জন্যও এই মাটি উপযোগী নয়। গবেষকদের উদ্দেশ্য হলো এসব গাছের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে গাছগুলোকে প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার মতো করে তৈরি করা। যাতে করে ভবিষ্যতে সরাসরি চাঁদের বুকে কোন ধরনের সহায়তা ছাড়াই খাবার উপযোগী সবজি চাষ করা যায়। নাসার পরবর্তী চন্দ্র অভিযানের নাম আর্টেমিস Artemis। এবার নাসা চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে শুধু গিয়ে ঘুরে আসার জন্য নয়। ওখানে গিয়ে রীতিমতো বসবাস করার জন্য।

সাদা গোলাপ White Rose

 দীর্ঘদিন চাঁদের বুকে বসবাস করতে হলে এত বিপুল পরিমাণ রসদ পৃথিবী থেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য চাঁদের মাটিতে ফসল ফলাতে হবে। এতে শুধু খাবারের যোগান মিটবে না গাছগুলো মানুষের নিঃশ্বাস নেবার মতো পরিষ্কার বাতাস এবং পানির চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে। পৃথিবীর বাইরের দীর্ঘ মানব বসতি গড়ে তোলার জন্য চাষাবাদের এটি প্রথম পদক্ষেপ নয় এর আগে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গবেষকেরা মরিচ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। 

মহাকাশে কিভাবে মরিচ চাষ হয়েছিল তা জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন,,, 



1 টি মন্তব্য:

tnx