মঙ্গল গ্রহের অজানা রহস্য
মঙ্গল গ্রহের অজানা রহস্য
আজকের এই তথ্যে আমাদের পৃথিবীর প্রতিবেশী সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ মঙ্গল সম্পর্কে জানবো -মিশরীয় সভ্যতায় মঙ্গলকে বলা হতো ডেচার এর অর্থ লাল গ্রহ। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিদ রাও মঙ্গলকে লাল গ্রহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন । গ্রীক ও রোমানরা মঙ্গল গ্রহের লাল রক্তের প্রতীক মনে করত ।
আর তাই তারা মঙ্গল গ্রহকে তাদের যুদ্ধের দেবতা মার্স এর নামে নামকরণ করে। মঙ্গল গ্রহের প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাদ দুইটি একটির নাম ফোবোস, আরেকটির নাম দিমোস। গ্রীক পুরাণ অনুযায়ী ফোবোস ও দিমোস যুদ্ধের দেবতা মার্চের দুই শীর্ষ। মঙ্গল গ্রহের তুলনায় উপগ্রহ দুটি খুবই ছোট এরা আয়তনে আমাদের পৃথিবীর চাঁদের ২০০ ভাগের একভাগ মাত্র। দিমোস মঙ্গলের এত কাছাকাছি প্রদক্ষিণ করে যে অদূর ভবিষ্যতে তার মঙ্গল গ্রহের বুকে আছড়ে পড়বে। মঙ্গল সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহ, সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ২২ কোটি ৭০ লক্ষ কিলোমিটার। মঙ্গল গ্রহ প্রতি সেকেন্ডে ২৩ কিলোমিটার গতিবেগে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। মঙ্গল গ্রহের দিনের দৈর্ঘ্য প্রায় পৃথিবীর সমান হলেও এর বছর পার হতে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগে। পৃথিবীর ২৪ ঘন্টা ৪০ মিনিটে মঙ্গলে একদিন আর পৃথিবীর ৬৮৬ দিনে মঙ্গলের একবছর। মঙ্গল গ্রহ এন্টার্কটিকা মহাদেশের থেকেও ঠান্ডা আর সাহারা মরুভূমির শুষ্ক । এর গড় তাপমাত্রা -৬২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও দিনরাতের মঙ্গলের তাপমাত্রার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। দিনের বেলায় এর তাপমাত্রা থাকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর রাতের বেলায় তা নেমে যায় -১২৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
ধারণা করা হয় মঙ্গল গ্রহে একসময় পানি ছিল, সময়ের বিবর্তনের ভূপৃষ্ঠের পানি ও আবহাওয়া হারিয়ে পুরো গ্রহটি পরিণত হয়েছে এক মরুভূমিতে। মঙ্গলের আবহাওয়ার অতীত আলামত ছড়িয়ে আছে এই ভূপৃষ্ঠ জুড়ে। এর নদীগুলোর প্রবাহ থেমে গেলেও এখনও অক্ষত আছে নদীগুলোর গতিপথ। মঙ্গলের ভূপ্রকৃতি আরেকটি দিক হলো এর পাহাড় ও গিরিখাত ।আমাদের সৌরজগতের সর্বোচ্চ পর্বত মঙ্গল গ্রহে অবস্থিত । মঙ্গলের সর্বোচ্চ অলিম্পাস মন্স এর উচ্চতা ২২ কিলোমিটার যা আমাদের পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা দ্বিগুণেরও বেশি ।মঙ্গল গ্রহ গবেষণায় এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সাফল্য নিয়ে এসেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পেরিত মঙ্গলযান কিউরিওসিটি রোভার।
দীর্ঘ নয় মাসের পৃথিবী থেকে ৫৭ কোটি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২০১২ সালে মঙ্গলে পৌঁছায় কিউরিওসিটি। ছোট একটি প্রাইভেটকার সময়কে বলা হয় পূর্ণাঙ্গ জৈব গবেষণাগার। মঙ্গল গ্রহের ভূপ্রকৃতি ও আবহাওয়া সম্পর্কে নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও হাজার হাজার ছবি পাঠিয়ে মঙ্গল গবেষণাকে এক অনন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে 260 কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত মঙ্গল যানটি।


কোন মন্তব্য নেই
tnx